গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী বাংলাদেশে গণতন্ত্র ও সুশাসনের হাল-হকিকত

. ভূমিকা

“গণতন্ত্র হল জনগণের জন্য, জনগণের দ্বারা, এবং জনগণের শাসনব্যবস্থা।”

– আব্রাহাম লিঙ্কন।

গণতন্ত্রের মৌলিক দাবিটা হলো: জনগণ রাষ্ট্রের মালিক। মালিক হিসেবে জনগণ রাষ্ট্রকে পরিচালনার জন্য নিজেদের মধ্য হতে একদল প্রতিনিধি বাছাই করবে, যারা নির্দিষ্ট কিছু সময়ের জন্য রাষ্ট্রের ব্যবস্থাপনাগত দায়িত্ব পালন করবে। তারা সব সময় সংসদের মাধ্যমে এবং স্বাধীন গণমাধ্যমের মাধ্যমে জনগণের নিকট জবাবদিহি করবে। জনগণের পক্ষ হতে জনগণের স্বার্থ দেখবে। জনগণের প্রত্যেক অংশকে সমান চোখে দেখবে। সবার সমান অধিকার নিশ্চিত করবে। জনগণ যে রাষ্ট্রের মালিক- এই মালিকানার দেখভাল করবে। এই প্রক্রিয়ায় গণতান্ত্রিক সরকার এমনভাবে শাসন ব্যবস্থা প্রণয়ন করবে, যাতে জনগণের মানবাধিকার ও নাগরিক স্বাধীনতা সব থেকে বেশি প্রয়োগ হয়।

অপরপক্ষে সুশাসন হলো এমন শাসনপ্রক্রিয়া যেখানে জনগণের অংশগ্রহণের মাধ্যমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার মাধ্যমে শাসনব্যবস্থা প্রযুক্ত হয়।

গণতন্ত্র ও সুশাসনের সাধারণ উপাদান হলো ‘জনগণের অংশগ্রহণ’, ‘কার্যকর প্রশাস ‘, ‘জবাবদিহিতা’, ‘স্বাধীন বিচার বিভাগ’, ‘শক্তিশালী গণমাধ্যম’ ও ‘ন্যায়বিচার’। এই কারণে গণতন্ত্র ও সুশাসন একে অপরের পরিপূরক। এই দুটি একত্রে প্রযুক্ত হলে দুইটাই পূর্ণতা পায়। এর ফলে একটি রাষ্ট্রের শান্তি, স্থিতিশীলতা ও উন্নয়ন ত্বরান্বিত হয়।

বাংলাদেশের ইতিহাস গণতন্ত্র ও সুশাসনের জন্য সংগ্রামের ইতিহাস। ব্রিটিশ শাসন থেকে শুরু করে পাকিস্তানি আমল এবং স্বাধীন বাংলাদেশে গণতন্ত্রের বিকাশ, বাধা ও পুনর্জাগরণের এক দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। এই প্রবন্ধে আমরা বাংলাদেশের গণতন্ত্র ও সুশাসনের অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যতের বিশদ বিশ্লেষণ করবো।

২. গণতন্ত্র, মানবাধিকার সুশাসন: তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ

২.১ গণতন্ত্রের সংজ্ঞা গুরুত্ব

গণতন্ত্র হল এমন একটি রাজনৈতিক ব্যবস্থা যেখানে জনগণ সরাসরি বা প্রতিনিধির মাধ্যমে রাষ্ট্র পরিচালনা করে (Dahl, 1971)। গণতন্ত্রের মৌলিক বৈশিষ্ট্যগুলোর মধ্যে রয়েছে:

  1. জনগণের অংশগ্রহণ – প্রতিটি নাগরিকের ভোটাধিকার নিশ্চিত করা।
  2. সংবিধান আইনসম্মত শাসন – সরকারকে সংবিধানের মধ্যে পরিচালিত করতে বাধ্য করা।
  3. নাগরিক অধিকার স্বাধীনতা – বাকস্বাধীনতা, সংগঠনের স্বাধীনতা এবং মত প্রকাশের স্বাধীনতা।
  4. জবাবদিহিতা স্বচ্ছতা – জনগণের প্রতি শাসকদের দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করা।

২.২ মানবাধিকার নাগরিক স্বাধীনতা

মানবাধিকার হলো মানুষের মৌলিক অধিকার, যা জাতিসংঘের সর্বজনীন মানবাধিকার ঘোষণা (UDHR, 1948) দ্বারা স্বীকৃত। বাংলাদেশের সংবিধানও মৌলিক অধিকার নিশ্চিতের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তবে, তা স্বত্ত্বেও বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশে ব্যাপক আকারে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, গুম, নিপীড়ন, সভা-সমাবেশে হামলা, ভোটাধিকার হরণ ইত্যাদি উপায়ে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছে।

২.৩ সুশাসনের মূলনীতি

সুশাসন হল এমন একটি প্রশাসনিক ব্যবস্থা যেখানে ন্যায়বিচার, কার্যকারিতা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বিদ্যমান (Kaufmann, Kraay, and Mastruzzi, 2009)। কার্যকর সুশাসন নিশ্চিত করতে প্রয়োজন:

  • আইনের শাসন
  • দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা
  • শক্তিশালী গণমাধ্যম
  • কার্যকর নির্বাচন ব্যবস্থা

৩. গণঅভ্যুত্থান পূর্ববর্তী বাংলাদেশে গণতন্ত্র সুশাসন

৩. ১ বাংলাদেশ ভূখণ্ডে গণতন্ত্রের পথ-পরিক্রমা

ব্রিটিশ আমলের গণতন্ত্র

১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইন উপমহাদেশে শাসন ব্যবস্থার কাঠামো নির্ধারণ করেছিল (Manor, 1990)। ১৯৩৭, ১৯৪৩ ও ১৯৪৬ সালের নির্বাচনে বাংলার জনগণের অংশগ্রহণ দেখা যায়। ভারত বিভাজনের মাধ্যমে ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান প্রতিষ্ঠিত হয় এবং পূর্ববাংলা পাকিস্তানের অংশ হয়ে যায়।

পাকিস্তানি আমলে গণতন্ত্র

  • ১৯৫৪ সালের নির্বাচন: যুক্তফ্রন্টের বিজয় পাকিস্তানের কায়েমী শাসকদের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়ায়।
  • ১৯৬৫ সালের নির্বাচন: সামরিক শাসন ও স্বৈরতন্ত্র শক্তিশালী হয়।
  • ১৯৭০ সালের নির্বাচন: আওয়ামী লীগের নিরঙ্কুশ জয় এবং পরবর্তী রাজনৈতিক সংকট মুক্তিযুদ্ধের দিকে নিয়ে যায়।

মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী বাংলাদেশে গণতন্ত্রের অভিযাত্রা

১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ গণতন্ত্র ও সুশাসনের জন্য সংগ্রামের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। কিন্তু স্বাধীনতার পরপরই নানা রাজনৈতিক সংকট দেখা দেয়।

  • ১৯৭৩ সালের নির্বাচন: ব্যাপক কারচুপির অভিযোগ ওঠে।
  • ১৯৭৯ সালের নির্বাচন: সামরিক শাসনের অধীনে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের প্রচেষ্টা।
  • ১৯৯১, ১৯৯৬, ২০০১ ২০০৮ সালের নির্বাচন: তুলনামূলক সুষ্ঠু নির্বাচন।
  • ২০১৪, ২০১৮ ২০২৪ সালের নির্বাচন: জালিয়াতি ও কারচুপির অভিযোগ।

৩.২ গণঅভ্যুত্থান-পূর্ববর্তী বাংলাদেশে সুশাসনের হাল-হকিকত   

বাংলাদেশে মানবাধিকার লঙ্ঘন একধরনের ধারাবাহিক সমস্যা। রাষ্ট্রীয় বাহিনী কর্তৃক নিপীড়ন, গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যা বাংলাদেশের সাধারণ ঘটনায় পরিণত হয়েছিল (HRW, 2018)। বিশেষ করে বিগত শেখ হাসিনা সরকারের আমলে গুম, খুন ও আয়না ঘরের ঘটনা বিশ্ব মানবতার বিবেককে ব্যাপকভাবে নাড়া দিয়েছে (Amnesty International, 2023)।

২০০৮, ২০১৩, ২০১৮ এবং ২০২৪ সালের ছাত্রদের কোটা সংস্কার আন্দোলন দমনে পুলিশি নির্যাতন ও হামলার  মাধ্যমে যেভাবে মৌলিক অধিকার খর্ব করা হয়েছে, তা গণতান্ত্রিক কোনো রাষ্ট্রে অকল্পনীয়।

৪. গণঅভ্যুত্থান-পূর্ববর্তী শাসন কাঠামো কেমন ছিল?  

বাংলাদেশের সংবিধান স্বাধীনতার পর থেকে নানা পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে গেছে। তবে ২০১১ সালে শেখ হাসিনা সরকার পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করে, যা গণতন্ত্রের জন্য এক বিরাট ধাক্কা ছিল। অনুচ্ছেদ ৭০ সংশোধনের মাধ্যমে সংসদীয় প্রতিনিধিদের স্বাধীন মত প্রকাশের সুযোগ হ্রাস করা হয়। এর ফলে রাষ্ট্রের সর্বময় ক্ষমতার অধিকার হয়ে ওঠে শেখ হাসিনা। এই সংশোধনীর ফলে নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নষ্ট হয়, যা একদলীয় শাসনের পথ সুগম করে (Rashid, 2015)।

তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার বিলোপের ফলে ক্ষমতাসীন দল নিজেই নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্ব পায়, যা ক্ষমতার অপব্যবহারের সুযোগ সৃষ্টি করে। ২০১৪ ও ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচন ছিল এর উদাহরণ, যেখানে ভোট জালিয়াতি, বিরোধী দলের ওপর দমন-পীড়ন এবং গণতন্ত্রের মৌলিক নীতিগুলোর লঙ্ঘন স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

এছাড়াও, সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৭০ সংশোধন করে দলীয় শৃঙ্খলা কঠোরভাবে প্রয়োগ করা হয়, যা সংসদীয় প্রতিনিধিদের স্বাধীনভাবে মত প্রকাশের অধিকার হরণ করে। এর ফলে সংসদ কার্যত একদলীয় ব্যবস্থায় পরিণত হয়, যেখানে সরকারের সমালোচনা করা সাংসদদের জন্য অসম্ভব হয়ে পড়ে।

৫. শেখ হাসিনা রেজিম কী স্বৈরাচারী ছিল?

স্বৈরতন্ত্র এমন একটি শাসনব্যবস্থা যেখানে ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত থাকে এবং নাগরিক স্বাধীনতা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত হয় (Linz, 2000)। স্বৈরতন্ত্রের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো:

  1. আইনের শাসনের অনুপস্থিতি: যেখানে ক্ষমতাসীন ব্যক্তি বা দল নিজেদের ইচ্ছেমতো আইন প্রণয়ন ও পরিবর্তন করে।
  2. মিডিয়া নিয়ন্ত্রণ: যেখানে সংবাদপত্র ও ইলেকট্রনিক মিডিয়া সরকারি নিয়ন্ত্রণে চলে যায়, ফলে জনগণের স্বাধীন মতামত প্রকাশের সুযোগ কমে যায়।
  3. বিরোধী দলের দমন: স্বৈরতান্ত্রিক শাসনে বিরোধী রাজনৈতিক দল ও মতামত প্রকাশকারীদের ওপর দমন-পীড়ন চালানো হয়।
  4. মানবাধিকার লঙ্ঘন: বিচারবহির্ভূত হত্যা, গুম, রাজনৈতিক গ্রেফতার ইত্যাদির মাধ্যমে জনগণের স্বাধীনতা সংকুচিত করা হয়।

শেখ হাসিনার শাসনামলের দিকে চেয়ে দেখুন। এগুলো কতটা ছিল বিচার করুণ নিজ বিবেকে। স্বৈরতন্ত্রের কী কী দৃষ্টান্ত দেখা গেছে, তার একদলীয় শাসন ব্যবস্থার সময়, রাজনৈতিক বিরোধীদের দমন, মিডিয়া নিয়ন্ত্রণ, এবং ভোট কারচুপির মাধ্যমে কেমন সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়ে ছিল, নিজেরা বিচার করুন।

. গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী বাংলাদেশে সংস্কার কেন দরকার?

গণতন্ত্র ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য রাষ্ট্রব্যবস্থার মৌলিক সংস্কার জরুরি। সংবিধান, নির্বাচন ব্যবস্থা ও প্রশাসনিক কাঠামো সংস্কারের মাধ্যমে রাষ্ট্র পুনর্গঠন অপরিহার্য (Zafarullah & Huque, 2018)।

বিশেষ করে নিম্নলিখিত খাতগুলোতে পরিবর্তন প্রয়োজন:

  1. সংবিধান সংস্কার: সংবিধানের এমন ধারা পরিবর্তন করতে হবে, যা ক্ষমতার ভারসাম্য নষ্ট করে। অনুচ্ছেদ ৭০-এর মতো বিধান সংশোধন করে সংসদীয় প্রতিনিধিদের স্বাধীন মতামত প্রকাশের সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে।
  2. নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার: একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন গঠন, ইভিএমের অপব্যবহার বন্ধ, এবং সেনাবাহিনী মোতায়েনের মতো পদক্ষেপ নিশ্চিত করতে হবে।
  3. প্রশাসনিক সংস্কার: পুলিশ ও আমলাতন্ত্রকে দলীয় প্রভাবমুক্ত করে পেশাদার ও স্বচ্ছ প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।
  4. বিচার বিভাগের স্বাধীনতা: বিচার বিভাগের ওপর নির্বাহী বিভাগের নিয়ন্ত্রণ কমাতে হবে, যাতে আদালত স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে।
  5. গণমাধ্যমের স্বাধীনতা: সংবাদ মাধ্যমের ওপর সরকারি নিয়ন্ত্রণ কমাতে হবে এবং সাংবাদিকদের স্বাধীনভাবে মত প্রকাশের অধিকার দিতে হবে।

. উপসংহার

বাংলাদেশে গণতন্ত্র ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য রাষ্ট্রীয় কাঠামোর মৌলিক সংস্কার অপরিহার্য। জবাবদিহিতামূলক সরকার, সুষ্ঠু নির্বাচন, স্বাধীন বিচারব্যবস্থা এবং স্বচ্ছ প্রশাসন ছাড়া গণতন্ত্র টিকে থাকতে পারে না।

জাতীয় ঐক্য বিনির্মাণের জন্য রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সমঝোতা প্রয়োজন। রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বদলে গণতান্ত্রিক চর্চা বাড়ানো, শিক্ষাব্যবস্থায় গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ শেখানো, এবং নাগরিকদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

সুশাসন ও গণতন্ত্রের জন্য শক্তিশালী নাগরিক সমাজ, কার্যকর গণমাধ্যম, এবং স্বাধীন প্রতিষ্ঠান অপরিহার্য। তাই রাষ্ট্রের সব স্তরে জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে একটি ন্যায়সংগত ও গণতান্ত্রিক সমাজ প্রতিষ্ঠা করা এখন সময়ের দাবি।

তথ্যসূত্র

  • Ahmed, Moudud (2002). “Democracy and the Challenge of Development: A Study of Politics and Military Interventions in Bangladesh.”
  • Amnesty International. (2023). “State of Human Rights in Bangladesh.”
  • Dahl, Robert A (1971). “Polyarchy: Participation and Opposition.”
  • Human Right Watch. (2018). “Democracy under Threat: Bangladesh Report.”
  • Jahan, Rounaq (2005). “Political Parties in Bangladesh: Challenges of Democratization.”
  • Kaufmann, D., Kraay, A., & Mastruzzi, M. (2009). “Governance Matters VIII: Aggregate and Individual Governance Indicators 1996-2008.”
  • Linz, Juan Jose (2000). “Totalitarian and Authoritarian Regimes.”
  • Manor, James (1990). “The Political Economy of Democratic Decentralization.”
  • Rashid, H. (2015). “The Fall of Democracy in Bangladesh: Analyzing the Constitutional Amendments.”
  • Transparency International. (2024). “Elections and Electoral Integrity in Bangladesh.”
  • UDHR. (1948). “Universal Declaration of Human Rights.”
  • Zafarullah, H., & Huque, A. S. (2018). “Managing Development in a Globalized World: Concepts, Processes, Institutions.”
author

রাজা এ. কে. আজাদ আখন্দ

Raja AK Azad Akhund is a post-modern thinker, researcher, and volunteer. An alumnus of the University of Dhaka, he holds both a Bachelor’s and Master’s degree in Disaster Management, a foundation from which he surveys the complex topographies of disaster economics, climate change, geography and environmental science. Azad, in his seminal treatise, "Disaster economic loss and income: an assessment in entitlement perspective", interrogates the multifaceted nature of direct and indirect damages, transcending standard metrics to formulate a comprehensive mathematical calculus for disaster damage and loss assessment. Within this work, he posits the “Disaster Economic Protection Model,” a visionary policy framework that functions as a meta-narrative for sustainable development, ensuring that progress remains resilient against the entropic forces of natural catastrophe. Synthesizing the "eliminating rationalizing theory" of R.G.A. Williams, Azad engineered “Cross-eliminating Logical Analysis”—a deconstructive apparatus designed to achieve objective clarity in the face of contentious discourse. This methodology, rooted in the core tenets of neutrality and evidentiary rigor, serves as the cornerstone of his provocative literary contribution, "Songbidhaner Postmortem". In this work, he conducts a forensic interrogation of the Bangladeshi constitutional fabric, meticulously parsing the dialectics of reform with clinical precision. Beyond his empirical pursuits, Azad curates the bilingual (Bengali and English) intellectual landscape as the editor of The Independent Bangla, a literary magazine.

এই ধরণের আরো...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Social media & sharing icons powered by UltimatelySocial