হে প্রভু,
তুমি মুক্ত করো মোরে, সক্কল অক্ষমতা হতে,
তুমি শক্ত করো মোরে, সক্কল নাজুকতা হতে|
আর তোমারই অনুরাগে দৃঢ় অনুরক্ত করো আমায়,
সমস্তটি মোর লয়ে তোমারি ভক্ত করো আমায়;
পরমুখাপেক্ষী কোরো না, তুমি মোরে সক্ষম করো,
সুখী গোলামটা কোরো না, দুঃখী আজাদটা করো,
যেন কভু তুমি বিনে কারো বন্দেগী না করতে হয়,
যেন কভু তুমি বিনে কারো হতে কিছু চাইতে না হয়|
তুমি মুক্ত করো মোরে গোলামির জিঞ্জির হতে,
তুমি মুক্ত করো মোরে শিরকের ধূম্রজাল হতে|
হে প্রভু,
তোমার পূর্ণ আরাধনার ক্ষমতা নেই আমার|
মাগফেরাত দাও, ক্ষমা করো মোর অক্ষমতার|
এবার, একটি গাভী দিয়েই রহম করো আমারে,
এবং পূর্ণ বরকতময় করো সেই গাভীটারে|
হে প্রভু,
এমন এক বিপুলা গাভী দাও, যার দুগ্ধ, গোস্ত,
কলিজা, ভূঁড়ি, অস্থি ও তরুণাস্থির সমস্ত,
আমি ভক্ষণ করে, অমিত শক্তি সঞ্চয় করে,
আবাদ করিব এ ভূমি আর হামেশা পূঁজিব তোমারে|
আমার দেহান্তরের পরে মিশিব যখন মাটিতে,
উদ্ভিদরাজি জন্ম নেয় যেন আমার পুষ্টিতে;
আর সেইসব উদ্ভিদরাজিরেই ভক্ষণ করে,
পৃথিবীতে যেন আমার গাভীটা বারবার ওঠে বেড়ে|
হে প্রভু,
এমন এক সুবৃহৎ সুফলা গাভী দাও আমারে,
গাভীটি যেন আমারই ফসলের মাঠে হাল চাষ করে,
আর যেন আমি ফসলটি হতে অন্নটি পেতে পারি,
আর খড়বিচুলিটা গাভীটির মুখে তুলে দিতে পারি|
হে প্রভু,
এমন একটি সক্ষম সুবলা গাভী দাও আমারে,
যেটি সর্বদা আমার ফসলের ভার বইতে পারে,
যার জোরে, আমি ক্ষেতের ধান বন্দরে নিতে পারি,
আর সেই ধান বেঁচে কাঠ-রশি কিনে গড়তে পারি,
আমার আর গাভীটার নিরাপদ বাসস্থান—
যৌথ প্রচেষ্টায় গড়া মোদের যৌথ পরিত্রাণ|
হে প্রভু,
এমন সতত-সুস্থ, সুকর্মা গাভী দাও আমারে,
যেটি আমার ঘানির চতুর্দিকে বারংবার ঘোরে,
আর ঘানিতে সড়িষা ঢেলে পাই আমি তেল আর ভূসি,
তেলটা আমি খাই, আর ভূসিটা দিয়ে গাভীটারে পুশি|
হে প্রভু,
এমন একটি সদা শক্তিশালী গাভী দাও আমারে,
যে শক্তি যোগায় আমারে আর আমি তা যোগাই তারে;
যে সাহস যোগায় আমারে আর আমি তা যোগাই তারে;
যে বাঁচতে শেখায় আমারে আর আমি বাঁচাই তারে|
হে প্রভু,
গাভীটা যেন হয় সার্বভৌম রাষ্ট্রের মতন,
যারে সর্বদা সেবা করে গড়ে তোলে নাগরিকগণ,
আর যেটি নাগরিকদের সেবা দেয় গাভীটির মতন;
পর¯পর টিকে থেকে করে পরস্পরের যতন|
হে প্রভু,
আমাকে এমন একটি অনন্তজীবী গাভী দাও, যে
আমার পূর্ণ সম্ভাবনার বিকাশে লাগবে কাজে,
আর সর্বদা আমিও যার পূর্ণ বিকাশের তরে,
আমার সমস্তটি দিয়েই শহিদ হই বারে বারে|
সাহিত্যশৈলী: এটি একটি রূপকাশ্রয়ী মন্ময় কবিতা| কবিতাটির প্রতিটি পূর্ণ পঙক্তি ২০ মাত্রার মাত্রাবৃত্ত ছন্দে রচিত; এবং ছেদক পঙক্তিগুলো (হে প্রভু) ৪ মাত্রার মাত্রাবৃত্ত ছন্দে রচিত|